কাউকে বিয়ের উপহার দেয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে ভালো হয়।

এমন উপহার আরো পাবার সম্ভাবনা আছে কিনা –
বাংলাদেশে বিয়ের উপহার হিসেবে ক্রোকারিস বা ইলেকট্রনিক্স হোম এপলায়েন্স (যেমন ব্লেন্ডার, স্যানডুইস মেকার) বেশ পরিচিত। সব বিয়েতেই দেখা যায় যে প্রয়োজনের অনেক বেশি ক্রোকারিস, ব্লেন্ডার ইত্যাদি উপহার হিসেবে জমা হয়ে গেছে। এবং শেষ পর্যন্ত হয়ত সেগুলো বছরের পর বছর অব্যবহৃত হিসেবে পড়ে থাকে আলমারির এক কোনে বা ফলস সিলিং এ। সুতরাং এই ধরনের উপহার দেয়ার আগে একটু ভেবে নেয়া ভালো যে আসলেই উপহারটি কতটুকু কাজে লাগতে পারে।

যাকে উপহার দেয়া হয়েছে তিনি কি নতুন বাসায় উঠছেন কিনা –
নতুন সংসার শুরু করতে হলে অনেক কিছুই কেনার প্রয়োজন হয়। আবার যদি কোনো নবদম্পতি বাবা মায়ের সাথে এক বাড়িতে থাকে সেক্ষেত্রে অনেক কিছুই না কিনলেও চলে। যেমন, ফার্নিচার, রান্নাঘরের জিনিষপত্র, টেলিভিশন ইত্যাদি। এই বিষয়গুলো খেয়াল রেখে ই বিয়ের উপহার নির্বাচন করা ভালো।

যাকে উপহার দেয়া হয়েছে তিনি দেশে থাকবেন না বিদেশে –
বিয়ের পরে বিদেশে চলে যাবার পরিকল্পনা আছে এমন কাউকে হালকা এবং সহজে বহনযোগ্য, এমন কোনো উপহার দেয়া ভালো।

তিনি কোন ব্যাপারে সৌখিন –
প্রতিটি মানুষেরই কোন নির্দিষ্ট ব্যাপারে সৌখিনতা থাকে। কেউ হয়ত ঘর সাজাতে পছন্দ করে, কেউ বই পড়তে পছন্দ করে আবার কেউ হয়ত বা মেকআপের ব্যাপারে সৌখিন। উপহার দেয়ার সময় এ ব্যাপারটিও মাথায় রাখতে পারেন।

তিনি খুব খুঁতখুঁতে কিনা –
অনেকই হয়ত ঘর সাজাতে পছন্দ করেন। তাই আপনি হয়ত শখ করে তাকে খুব সুন্দর কোন বিছানার চাদর বা কুশন কাভার গিফট করলেন। কিন্তু এমন টিও হবার সম্ভাবনা আছে যে এ ব্যাপারে তিনি হয়ত বেশ খুতখুতে। তিনি হয়ত রুমের সব কিছুই রং মিলিয়ে রাখতে পছন্দ করেন। হয়ত তিনি দেয়ালের রং, বিছানার চাদর, পর্দার রং ইত্যাদি সব কিছুর মধ্যেই সামঞ্জস্য রাখতে পছন্দ করেন। অতএব, সম্ভব হলে উপহার দেয়ার আগে এ বএই ব্যাপারে জেনে নিতে পারেন।

আলোচনা করে নিন –
সম্ভব হলে যাকে উপহার দেয়া হচ্ছে তার সাথে কথা বলে জেনে নিন কোন জিনিষটি তার প্রয়োজন বা তার নির্দিষ্ট কোনো পছন্দ আছে কিনা।
এছাড়াও মেকআপ, টয়লেট্রিজ বা পোশাক উপহার দেয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন ব্যান্ড বা সাইজ ব্যবহারের করেন কিনা জেনে নেয়া ভালো।

গিফট ভাউচার –
গিফট ভাউচার হলো কাউকে উপহার দেয়ার সব চেয়ে সহজ বা ঝুঁকিমুক্ত উপায়। এখন বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকগুলো নানা ধরনের গিফট ভাউচারের প্রচলন করেছে। এছাড়াও আড়ং বা বিভিন্ন বিপণী প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নানা ধরনের গিফট ভাউচার পেতে পারেন। এতে করে যাকে উপহার দিচ্ছেন, তিনি সহজেই নিজের সবচেয়ে পছন্দের জিনিষটি কিনে নিতে পারবেন। এতে আপনিও উপহার বাছাই এর ঝামেলা থেকে রেহাই পাবেন, আপনার মূল্যবান অর্থও অপচয় হবার সম্ভাবনা কমে আসবে। আর যাকে দিচ্ছেন তিনিও নিজের পছন্দমতো কোন কিছু কিনতে পেরে খুশি হবেন।

কয়েকজন মিলে একসাথে কোন উপহার দিতে পারেন। এক্ষেত্রে বেশ বড় একটি অংক জমা হবে। অনেক সময়ই দেখা যায় ইচ্ছা থাকার সত্ত্বেও অনেক প্রয়োজন বা শখ মেটানো সম্ভব হয় না কারণ এ জন্য বেশ বড় অংকের অর্থের প্রয়োজন হবে। যেমন প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও হয়ত টেলিভিশন বা কোন কোন ফার্নিচার কেনা সম্ভব হচ্ছে না। অথবা শখ থাকা সত্ত্বেও হানিমুনে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কোন বড় অংকের টাকা জমা হলে তা দিয়ে সহজেই এই ধরনের উপহার দেয়া যেতে পারে।

আর সব শেষে বলব, যদি একান্তই সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন তাহলে এমন কিছু দিতে পারেন যা অনেকের কাজে লাগতে পারে। ফলে যাকে উপহার দিচ্ছেন তিনি নিজে ব্যবহার না করলেও অন্য কাউকে সহজেই উপহার হিসেবে দিয়ে দিতে পারেন। যেমন জুয়েলারি, শোপিস ইত্যাদি। কোন নির্দিষ্ট সাইজের উপহার, যেমন জামা, জুতা ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। এক্ষেত্রে অপচয়ের সম্ভাবনাও কমে যাবে।

Related Post


Leave a Reply


SIGN INTO YOUR ACCOUNT CREATE NEW ACCOUNT

Your privacy is important to us and we will never rent or sell your information.

 
×
CREATE ACCOUNT ALREADY HAVE AN ACCOUNT?

 
×
FORGOT YOUR DETAILS?
×

Go up